ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রথমার্ধে ২-২ গোলে সমতা থাকার পর, বিরতিতে ড্রেসিংরুমে বসেছিল ইংল্যান্ড দলের এক নতুন রূপরেখা। প্রধান কোচ টমাস টুখেল শান্ত গলায় খেলোয়াড়দের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘যদি আমরা হারি, তবে নিজেদের স্টাইলেই হারব’। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো টুখেলের এই রণকৌশলকে ক্রিকেটের বিখ্যাত ‘বাজবল’ নীতির নতুন ফুটবল সংস্করণ (বাজবল ২.০) হিসেবে আখ্যায়িত করছে। যেখানে অন্ধভাবে আক্রমণ না করে, স্বাধীনতা ও বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে পরিকল্পিত ঝড় তোলার নির্দেশনা ছিল। কোচের এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দ্বিতীয়য়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেয় ইংলিশরা। শেষ পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড দল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আগ্রাসী আক্রমণাত্মক কৌশলের ওপর ভর করেই তারা তাদের ৬০ বছরের ট্রফির খরা কাটাতে চায়।
ম্যাচের প্রথমার্ধে কেইনের পেনাল্টি ও কর্নার থেকে আসা দারুণ হেডারে ইংল্যান্ড এগিয়ে গেলেও, রক্ষণভাগের ভুলে বাচুরিনা এবং পিটার মুসা গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান। প্রথমার্ধের এই রক্ষণাত্মক ভুল ও বারবার ব্যাক-পাস দেওয়ার প্রবণতা টুখেলের পছন্দ হয়নি। বিরতিতে তিনি খেলোয়াড়দের কড়া কথা শোনান এবং ডিফেন্সকে গুটিয়ে না রেখে মাঝমাঠের লাইনে তুলে এনে খেলার নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় অর্ধে কোচের ছক অনুযায়ী ডেক্লান রাইস মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং এলিয়ট অ্যান্ডারসনের নিখুঁত পাস থেকে জ্যুড বেলিংহাম গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
ম্যাচের শেষ দিকে টুখেল তাঁর আক্রমণাত্মক ‘বম্ব স্কোয়াড’ খ্যাত বুকায়ো সাকা, মার্কাস রাশফোর্ড ও রজার্সকে মাঠে নামানোর ঝুঁকি নেন। এই দুই বদলি খেলোয়াড় সাকা ও রাশফোর্টের যৌথ প্রচেষ্টায় ইংল্যান্ডের পক্ষে চতুর্থ গোলটি করেন রাশফোর্ড। অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়, কারণ কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যামের ১১৫ ম্যাচের রেকর্ড ছোঁয়ার দিনে তিনি নিজে জোড়া গোল করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন। শুধু আক্রমণেই নয়, শেষ মিনিটে প্রতিপক্ষের একটি নিশ্চিত শট নিজের পেট দিয়ে আটকে দিয়ে রক্ষণভাগেও অবদান রাখেন কেইন। ম্যাচ শেষে কেইন জানান, এই টুর্নামেন্টে আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে খেলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
মন্তব্য করুন