রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলা থেকে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সদর উপজেলায় এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হলেও গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নবীরন বেগম (৫৫) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত পৃথক তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের ষাটনল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এক নারীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দীন প্রামাণিক পাড়ার রফিকুল মৃধার পুকুরপাড়সংলগ্ন আখক্ষেত থেকে নবীরন বেগম নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবার প্রথমে স্ট্রোকে মৃত্যুর কথা বললেও পরবর্তীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর দাবি করে। তবে স্থানীয়দের দাবি, নিহতের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং একটি প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নিহতের ভাই আবজাল শেখ ময়নাতদন্ত না চাওয়ার কথা সামাজিক মাধ্যমে জানালেও ছেলে রাসেল শেখ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।
মন্তব্য করুন