বান্দরবান: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের এক মর্মান্তিক ঘটনায় আব্দুল খালেক (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী সীমান্ত এলাকায় এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। নিহত আব্দুল খালেক কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১ এর সি ব্লকের বাসিন্দা মো. আনু মিয়ার ছেলে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ রেজু আমতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৪০ সংলগ্ন এলাকা এবং আন্তর্জাতিক শূন্য রেখা (জিরো লাইন) থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি আকাশমনি বাগানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সকালে স্থানীয় মাস্টার শাহ আলমের ওই বাগানের ভেতরের জঙ্গল ও আগাছা পরিষ্কার করতে যান আব্দুল খালেক। বাগান পরিষ্কার করার একপর্যায়ে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী স্থলমাইনের (ল্যান্ডমাইন) ওপর তার পা পড়লে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মাইন বিস্ফোরণে আব্দুল খালেক রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার সঙ্গে থাকা ছোট ভাই চিৎকার শুনে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং সংলগ্ন এমএসএফ (মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি গণমাধ্যমকে বলেন, "মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক। বিজিবির পক্ষ থেকে বারবার সীমান্তবাসীদের সতর্ক করা সত্ত্বেও অনেকে জীবিকার প্রয়োজনে বা কাঠ ও জঙ্গল পরিষ্কারের অন্য কোনো কারণে নিষিদ্ধ ও এই অতি ঝুঁকিপূর্ণ কাঁটাতারের কাছাকাছি এলাকায় প্রবেশ করেন। আজ মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি।"
৩৪ বিজিবি অধিনায়ক আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ জনগণকে সচেতন ও নিরাপদ রাখতে বিজিবি নিয়মিতভাবে প্রচারণা ও মাইকিং চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার্থে সবাইকে বিজিবি নির্ধারিত নিরাপদ গণ্ডির ভেতরে চলাচলের জন্য আবারও কঠোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি পয়েন্টে অতীতেও একাধিকবার মাইন ও আইইডি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুঁতে রাখা এসব স্থলমাইনের বিস্ফোরণে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় বাংলাদেশি বাসিন্দা এবং রোহিঙ্গাসহ অনেক মানুষ হাত-পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে এই রক্তাক্ত সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ও স্থায়ী সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের।
মন্তব্য করুন