যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ শেষে রক্তচাপ বাড়াল আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফুটবলারদের মধ্যকার উত্তেজনা। ফাইনালে ১-০ গোলে আলবিসেলেস্তেরা হেরে যাওয়ার পর মাঠের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গেসঙ্গেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি হয় চরম বাকবিতণ্ডা, যা পরবর্তীতে হাতাহাতির পর্যায়ে গড়ায়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ম্যাচের ফল নির্ধারিত হওয়ার পর আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও লিসান্দ্রো মার্তিনেস স্পেনের ফুটবলারদের ধাক্কা দিচ্ছেন। এর মাঝেই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি ও স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রির মধ্যে তীব্র তর্ক শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
আর্জেন্টাইন একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচারে ধরা পড়া ভিডিওর সূত্র ধরে জানা যায়, রদ্রিকে উদ্দেশ করে ওতামেন্দি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সারা সপ্তাহ রেফারিদের নিয়ে কান্নাকাটি করেছ, বোকা। তুমি আর লাপোর্ত দুজনই। এটা ঠিক নয়। রেফারিদের নিয়ে অভিযোগ করেছ।’ জবাবে রদ্রি শান্তভাবে বলেন, ‘আমি তোমাকে সম্মান করি।’ তবে রদ্রির এই কথার পরও ওতামেন্দি থামেননি এবং তাকে লক্ষ্য করে কিছু বলতে গেলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত স্পেনের ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই খেলোয়াড়ের মাঝে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ওতামেন্দি রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ তোলার পেছনে মূলত স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তর পূর্বের মন্তব্য ভূমিকা রেখেছিল। বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে স্পেনের দৈনিক 'মার্কা'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাপোর্ত অভিযোগ তুলেছিলেন যে, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের অতিরিক্ত কঠোর ট্যাকল বা রাফ প্লে প্রায়শই শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে।
সে সময় লাপোর্ত বলেছিলেন, রেফারিরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে তার কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ম্যাচে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে যা তাদের বিস্মিত করেছে। বড় প্রতিযোগিতায় এ ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ ম্যাচের ভারসাম্য নষ্ট করে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
ম্যাচ পরবর্তী এই অপ্রত্যাশিত হাতাহাতি ও উত্তেজনার ঘটনায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা জানায়নি।
মন্তব্য করুন