যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের ওপর কোনো সামরিক হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের অত্যন্ত সংবেদনশীল জ্বালানি অবকাঠামোতেও পালটা হামলা চালানো হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ব্যয় বাড়িয়ে দিতে এই কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। গত ২৮ জুলাই ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ করে ওয়াশিংটনকে নিবৃত্ত করতে তাদের প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের মতে, আরাগচির স্পষ্ট বার্তা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে উপসাগরে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোও তেহরানের পালটা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো স্থাপনায় হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইরানি কর্মকর্তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আঞ্চলিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো কতটা অরক্ষিত। এর ফলে তেল শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানির অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে সংঘাতের পথ ছেড়ে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে যাওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে, কারণ নতুন কোনো যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাবিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন