২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। কোয়ার্টার-ফাইনালের কঠিন ধাপ পেরিয়ে শেষ চারটিতে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং স্পেন। ডালাসে প্রথম সেমিফাইনালে ইউরোপীয় জায়ান্ট ফ্রান্স ও স্পেনের লড়াইয়ের পর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। মহারণের আগের মুহূর্তে চার দলের তারকারাই এখন জয়ের সংকল্পে অটুট।
আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির জন্য এবারের সেমিফাইনাল এক বিশেষ মাইলফলক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাওয়া মেসি ম্যাচটিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, হুলিয়ান আলভারেস মনে করছেন দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই তাদের বড় জয় এনে দেবে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং উদীয়মান তারকা জুড বেলিংহামও ট্রফি খরা কাটাতে বদ্ধপরিকর। কেইন যেমন প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রমকে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলছেন, বেলিংহাম তেমনি সতীর্থদের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করছেন।
টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালের হাতছানি দেখছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শিরোপা জয় ছাড়া কোনো কিছুতেই তাদের সন্তুষ্টি নেই। দলের আরেক তারকা উসমান দেম্বেলে জাতীয় দলের হয়ে নিজের দায়িত্ব পালনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন এবং ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে ফ্রান্সের সাফল্যের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।
স্প্যানিশ শিবিরেও জয়ের আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী। মাত্র ১৮ বছর বয়সী সেনসেশন লামিন ইয়ামাল ফ্রান্সকে সমীহ করলেও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তার মতে, স্পেনই পারে ফ্রান্সের মতো দলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে। দলের মাঝমাঠের প্রাণ রদ্রিও মনে করেন, এটি তাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হলেও নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেললে জয় অসম্ভব কিছু নয়।
ফুটবল বিশ্বের সেরা চার দল এখন মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার অপেক্ষায়। প্রতিটি খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাসী বার্তা প্রমাণ করে যে, এই দুই সেমিফাইনালে লড়াই হবে তীব্র এবং প্রতিটি মুহূর্তই হবে উত্তেজনায় ঠাসা। শেষ পর্যন্ত কোন দুটি দল ট্রফির লড়াইয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় কোটি কোটি ভক্ত।
মন্তব্য করুন