পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করা অত্যন্ত ধৈর্যের এবং মেধার কাজ। সাধারণত এই কাজটি সম্পন্ন করতে কয়েক বছর সময় লাগে। কিন্তু মাত্র ৮ মাস ১০ দিনে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে নোয়াখালীর হাতিয়ার শিশু আব্দুল আহাদ। চট্টগ্রামের হালিশহরে অবস্থিত মাদ্রাসা ওমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর এই মেধাবী শিক্ষার্থী দ্বীপাঞ্চল হাতিয়াবাসীর জন্য বয়ে এনেছে এক বিশাল গৌরব।
আব্দুল আহাদের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রেহানিয়া গ্রামে। তার বাবা আনোয়ার হোসেন। নদীমাতৃক অঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশ আর প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই শিশুটি তার অসামান্য মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, প্রবল ইচ্ছা থাকলে যেকোনো অসাধ্য সাধন সম্ভব। তার এই অভাবনীয় সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা এবং মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
সম্প্রতি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষ মাহফিলে আলেম-উলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আব্দুল আহাদ পবিত্র কুরআনের শেষ সবক তিলাওয়াত করে শোনায়। তার তিলাওয়াতের বিশুদ্ধ উচ্চারণ, সাবলীল গতি এবং সুরেলা কণ্ঠ উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনেকেই চোখের জল ফেলে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিশুটির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলতা কামনা করে দোয়া করেন।
মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক হাফেজ মাওলানা রাসেল আহমদ জানান, আব্দুল আহাদের এই দ্রুত সাফল্যের পেছনে তার ব্যক্তিগত একাগ্রতা এবং শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমত না থাকলে এত অল্প সময়ে ৩০ পারা কুরআন মুখস্থ করা অসম্ভব। হাতিয়ার এই কৃতি সন্তান এখন শুধু তার পরিবার বা এলাকার নয়, বরং মাদ্রাসার জন্য এক গর্বের প্রতীক। তার এই নিরলস প্রচেষ্টা সমবয়সী অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন