প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের দ্বিতীয় গন্তব্য চীন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সফরটিতে প্রায় ১৫টির বেশি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
তবে এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে। গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত কলাম অনুযায়ী, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ফলে সৃষ্ট পশ্চিমা চাপ, অভ্যন্তরীণ নীতিমালার ধারাবাহিকতা এবং পশ্চিমা উন্নয়ন মডেলের প্রতি অতি-নির্ভরশীলতা চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, ঋণফাঁদ নিয়ে অপপ্রচার এবং চীনের বাণিজ্য মডেল নিয়ে দেশের ভেতরে বিদ্যমান ভিন্নমতগুলোও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় প্রয়োজন উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও খোলামেলা আলোচনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর প্রমাণ করবে যে, বাংলাদেশ তার স্বার্থকে বা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে কতটা অগ্রাধিকার দিচ্ছে। চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি, স্থায়িত্ব এবং গ্লোবাল সাউথ-এর প্ল্যাটফর্মে একটি শক্তিশালী জোট হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো শিল্প খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশের শ্রমবাজারের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে উচ্চ-মূল্যসংযোজিত পণ্য রপ্তানি করা। চীন ও বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, চিন্তন প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে দুই দেশের আধুনিকায়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সমন্বয়ে বাংলাদেশ তার নিজস্ব উন্নয়নের মডেল খুঁজে নিতে সক্ষম হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন