চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে মাঝে মাঝে এমন কিছু বিরল ঘটনা সামনে আসে যা কল্পনাকেও হার মানায়। ২০১৯ সালে হংকংয়ের এক নারীর জীবনে ঘটে যাওয়া এমনই একটি ঘটনা আলোড়ন তুলেছিল সারা বিশ্বে। টয়লেটে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে সেই নারী তার জীবনের গত ১০ বছরের সব স্মৃতি মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে ফেলেন। বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর তিনি তার স্বামী, সন্তান এমনকি নিজের পরিচিত ঘরবাড়িকেও চিনতে পারছিলেন না। অথচ তার কোনো চোট বা বড় কোনো অসুস্থতা ছিল না। চিকিৎসকদের দীর্ঘ পরীক্ষার পর জানা যায়, বাথরুমে অতিরিক্ত চাপের ফলে তার মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই বিরল পরিস্থিতির নাম দেওয়া হয়েছে ট্রান্সিয়েন্ট গ্লোবাল অ্যামনেশিয়া। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি বা শৈশবের কথা মনে থাকলেও সাম্প্রতিক কিছু বছরের স্মৃতি পুরোপুরি মুছে যায়। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, আক্রান্ত ব্যক্তি নতুন করে কোনো স্মৃতি ধরে রাখতে পারেন না, যার ফলে তিনি কয়েক মিনিট পরপর একই প্রশ্ন বারবার করতে থাকেন। তবে আশার কথা হলো, এই অবস্থা সাধারণত স্থায়ী নয় এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীরা ধীরে ধীরে তাদের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ফিরে পান।
চিকিৎসকরা বলছেন, শুধুমাত্র টয়লেটে চাপ দেওয়া নয়, বরং হুট করে ভারী ওজন তোলা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ অথবা রক্তচাপের হঠাৎ তারতম্যের কারণেও এই সমস্যাটি দেখা দিতে পারে। সাধারণত ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি থাকলেও যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে। বাথরুমের মতো অতি সাধারণ একটি স্থানে অতি সামান্য অসাবধানতা যে দীর্ঘ এক দশকের স্মৃতি মুছে দিতে পারে, তা আমাদের সচেতন হওয়ার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তাই দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক যেকোনো চাপের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি, যাতে মস্তিষ্ক ও শরীরের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো প্রভাব না পড়ে।
মন্তব্য করুন