ঝিনাইদহ শহরের বাইপাস সড়ক এলাকায় দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে স্ত্রীসহ মো. সোহেল কাজী নামের এক সেনাসদস্য মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের বাইপাস সড়কের গ্যাস ডিপো এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল কাজী নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার সঙ্গে নিহত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দাহ গ্রামের আব্দুস সাত্তার বুলুর মেয়ে।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের লিডার লিয়াকত বিশ্বাস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল থেকে মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলিকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি শৈলকুপার বড়দাহ গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন সেনাসদস্য সোহেল কাজী। পথিমধ্যে বাইপাস সড়কের গ্যাস ডিপো এলাকায় পৌঁছালে পার্শ্ববর্তী সড়ক থেকে হঠাৎ উঠে আসা একটি রিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে সোহেল মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মোটরসাইকেলসহ স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সড়কে ছিটকে পড়ে গেলে কুষ্টিয়া থেকে খুলনাগামী গড়াই পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের সজোরে চাপা দেয়।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি। গুরুতর আহত অবস্থায় সেনাসদস্য সোহেল কাজীকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর সিএমএইচ-এ (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তারও মৃত্যু হয়। নিহত তুলির পরিবার জানায়, সকালে তারা হাসপাতালে রোগী দেখতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফেরার পথেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হন। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন যে, মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন