২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের লড়াই এখন চূড়ান্ত উত্তেজনায়। জার্মানি বা জাপানের মতো বড় দলগুলোর বিদায় এবং ফ্রান্স, ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের মতো দলগুলোর দাপুটে পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্ট এখন এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়েছে। ফুটবলবিশ্বের অগুনতি ভক্তের একমাত্র চাওয়া ফাইনালের মঞ্চে লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এক ঐতিহাসিক লড়াই। কিন্তু এই ‘স্বপ্নের ফাইনাল’ কি আদৌ সম্ভব?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেসি এবং রোনালদোর দল এমনভাবে ড্রয়ের তালিকায় রয়েছে যে, তাদের সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কেবল ফাইনাল ম্যাচেই। তবে এই পথে পাড়ি দেওয়া মোটেও সহজ নয়। পর্তুগাল ও আর্জেন্টিনা উভয় দলকেই শিরোপার লড়াইয়ে আসতে হলে টানা চারটি ম্যাচে জয় তুলে নিতে হবে। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে পর্তুগালের সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া এবং আর্জেন্টিনার মুখোমুখি কেপ ভার্দে। একটি ভুল বা পরাজয়ই ভক্তদের এই আরাধ্য স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।
এই স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে। বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম এই প্রাণশক্তি মেসির গোল করার রেকর্ডকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি পর্তুগালের পথেও বড় বাধা। ড্র অনুযায়ী, পর্তুগাল ও ফ্রান্স যদি নিজেদের সব ম্যাচে জয়ী হয়, তবে সেমিফাইনালেই এই দুই শক্তির মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এমবাপ্পের ক্ষিপ্রতা আর গোল করার অসামান্য দক্ষতা রোনালদোর পর্তুগালকে ফাইনালে যাওয়ার পথে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলবে।
আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, আমরা কি ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি দেখতে পাব? আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের সেই উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের স্মৃতি এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে অমলিন। যদি এমবাপ্পের ফ্রান্স সেমিফাইনালে রোনালদোকে টপকে যায় এবং আর্জেন্টিনা নিজেদের লড়াইতে জয়ী হয়, তবে ফাইনালে আবারও সেই রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ দেখা যেতে পারে। বিশ্বকাপে টানা দুবার একই দলের ফাইনাল খেলার নজির অতীতে কেবল একবারই রয়েছে। ২০২৬ সালের এই মহাযজ্ঞের শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে এখন ফুটবলবিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
মন্তব্য করুন