দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে অভিযুক্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের (Interpol) সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি সুনির্দিষ্ট মামলায় ও জারি করা রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে গ্রেফতার করে। সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এআইজি (মিডিয়া) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে।
বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর আইনি জটিলতা এড়াতে অত্যন্ত গোপনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সাবেক এই বিতর্কিত আইজিপি। দেশ ছাড়ার পূর্বে তিনি তাঁর নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বড় একটি অংশ বিক্রি ও অর্থ পাচারের চেষ্টা করেছিলেন বলেও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তবে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর অবস্থান ও দুদকের আইনি তৎপরতায় শেষ রক্ষা হলো না তাঁর। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে জানা গেছে, দুবাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বেনজীর আহমেদকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আদালতে সোপর্দ করার জোর প্রচেষ্টা চলছে। বিগত সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অন্যতম নেপথ্য কারিগর বেনজীর আহমেদের এই গ্রেফতারকে দেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞ ও সাধারণ নাগরিকেরা।
মন্তব্য করুন