অস্ট্রেলিয়ার রুক্ষ ‘আউটব্যাক’ অঞ্চলের দক্ষিণ মরুভূমির প্রান্তে অবস্থিত এক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর শহর ‘কুবার পেডি’। বাইরে থেকে দেখলে একে ধু-ধু লাল মাটির মরুভূমি মনে হলেও, এর আসল সৌন্দর্য ও ম্যাজিক লুকিয়ে আছে মাটির নিচে। তীব্র গরম ও মরুভূমির গনগনে আঁচ থেকে বাঁচতে এখানে গড়ে উঠেছে বিশ্বের একমাত্র সম্পূর্ণ কার্যকরী ভূগর্ভস্থ বা পাতাল শহর, যেখানে মানুষ মাটির নিচে আধুনিক জীবনযাপন করছেন। ১৯১৫ সালে সোনা খুঁজতে এসে এক কিশোরের মাধ্যমে এখানে ওপাল বা দুর্মূল্য রত্নপাথরের সন্ধান মেলার পর এই শহরের ইতিহাস বদলে যায়। বর্তমানে কুবার পেডি বিশ্বের বৃহত্তম ওপাল খনি অঞ্চল, যেখান থেকে পৃথিবীর বেশিরভাগ ওপাল পাওয়া যায়। মাটির নিচের এই ঘরগুলোকে বলা হয় ‘ডাগআউট’, যার ভেতরে আধুনিক রান্নাঘর, বিলাসবহুল বাথরুম, হাইস্পিড ইন্টারনেট এবং সুইমিংপুলের মতো সমস্ত নাগরিক সুবিধা রয়েছে। শুধু বাড়িঘরই নয়, এই পাতাল শহরে রয়েছে সার্বিয়ান অর্থোডক্স ও ক্যাথলিক চার্চ, মিউজিয়াম এবং খাঁটি ওপাল খনির ইতিহাস জানার নানা ব্যবস্থা।
উপরের রুক্ষ জমিতে ঘাস না থাকায় লাল মাটিতেই তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত গলফ কোর্স, যেখানে তীব্র গরম এড়াতে রাতে ফ্লাডলাইটের আলোয় জ্বলজ্বলে বল দিয়ে গলফ খেলা হয়। কুবার পেডির এই অতিপ্রাকৃতিক ও বৈচিত্র্যময় ল্যান্ডস্কেপ দেখে হলিউডও বারবার মুগ্ধ হয়েছে; যার ফলে ১৯৮৫ সালের বিখ্যাত সিনেমা ‘ম্যাড ম্যাক্স বিয়ন্ড থান্ডারডোম’ এবং ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অফ প্রিসিলা’র মতো ছবির শুটিং হয়েছে এখানকার আসল ডাগআউটের ভেতরে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশের মানুষ এখানে একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করছেন। গতানুগতিক পর্যটন কেন্দ্রের বাইরে যারা ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের জন্য মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসের শীতকালে কুবার পেডি ঘুরে আসা এক পরম বিস্ময় হতে পারে। থাকার জন্য এখানে ‘ডেজার্ট কেভ হোটেল’-এর মতো মাটির তলার বিলাসবহুল হোটেলের ব্যবস্থাও রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে কোনো কৃত্রিম যন্ত্র ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে ঘর ঠান্ডা রাখা যায়, কুবার পেডি তার এক অনন্য জ্যান্ত উদাহরণ।
মন্তব্য করুন