রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান দ্বন্দ্বে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। রোববার (১২ জুলাই) উভয় পক্ষের পালটাপালটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার রাতভর চালানো হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দুজন ছিলেন একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মী। এছাড়া খেরসন শহরে রুশ ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন শহরের মেয়র ইয়ারোস্লাভ শানকো। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া এখন উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা জোরদার করেছে। তবে ন্যাটো সম্মেলন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইউক্রেনকে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনীয় শহর এনারহোদারে ইউক্রেনের হামলায় চারজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন রাশিয়ার পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের প্রধান আলেক্সেই লিখাচেভ। জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী এই শহরটি যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতি ও যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার প্যারিসে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২৫টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এই অংশগ্রহণে ইউক্রেনকে সহায়তার নতুন রূপরেখা চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি এবং দুই পক্ষের এই লড়াইয়ে বেসামরিক মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন