ভিশন ২০৩০-এর সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সৌদি আরব তাদের আবাসন ও রিয়েল এস্টেট বাজারে বিশাল পরিবর্তন এনেছে। সম্প্রতি দেশটি অনাবাসী এবং বিদেশি নাগরিকদের জন্য সম্পত্তি কেনার নতুন নীতিমালা অনুমোদন করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আবাসন খাতকে আরও গতিশীল এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা। রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির তত্ত্বাবধানে এখন থেকে সমস্ত লেনদেন একটি সমন্বিত ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করবে।
নতুন এই আইনের আওতায় কোনো বিদেশি নাগরিক সৌদি আরবে সম্পত্তি কিনতে চাইলে প্রথমে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত একটি ডিজিটাল আইডি বা পরিচিতি নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। সেই সঙ্গে ক্রেতাকে স্থানীয় একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং ডিজিটাল আইডির সঙ্গে যুক্ত একটি মোবাইল নম্বর নিবন্ধন করতে হবে। এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার ফলে ক্রেতার সঠিক পরিচয় যাচাই করা যেমন সহজ হবে, তেমনি জালিয়াতির ঝুঁকিও কমে আসবে। বিদেশি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও নিয়মগুলো বেশ সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যেখানে তাদের বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধিত থাকা এবং প্রকৃত মালিক বা বেনিফিশিয়াল ওনারের তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।
পারিবারিক মালিকানার ক্ষেত্রে সৌদি সরকার একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন থেকে কোনো বিদেশি নাগরিক যদি আবাসিক সম্পত্তি কেনেন, তবে তার স্ত্রী ও সন্তানরা নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং তারা আলাদাভাবে কোনো বাড়ির মালিক হতে পারবেন না। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে, যেমন বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা সন্তানদের বয়স ২৫ বছর পার হলে এই নিয়মে কিছুটা ছাড় দেওয়া হবে। সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার ক্ষেত্রে নিয়মগুলো আগের মতোই কঠোর রাখা হয়েছে, যেখানে কেবল মুসলিম নাগরিকরাই সম্পত্তি কেনার বিশেষ অধিকার পাবেন।
নতুন আইনের আরেকটি বড় দিক হলো এর কঠোর আইনি কাঠামো। যদি কোনো বিদেশি ক্রেতা ভুল তথ্য প্রদান বা জালিয়াতির আশ্রয় নেন, তবে তাকে সম্পত্তির মূল্যের ৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হতে পারে, যার সর্বোচ্চ সীমা ১ কোটি সৌদি রিয়াল। আইন লঙ্ঘনকারীদের তাৎক্ষণিক শাস্তির পাশাপাশি নিজেদের ভুল সংশোধনের জন্য ১০ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদিত ইলেকট্রনিক মাধ্যম ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের এই নতুন আইন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে, তেমনি আবাসন খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
মন্তব্য করুন