২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ এখন চমক দেখানো দল মরক্কো। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর ফরাসি শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তার ভাঁজ কাটেনি। এই ম্যাচে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ ও গতি অনেকটাই ম্লান ছিল, যা নিয়ে সতর্ক এমবাপ্পে। আসন্ন কোয়ার্টার ফাইনালের আগে মরক্কোকে পরোক্ষভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল শারীরিক চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনায় ঠাসা। প্রতিপক্ষের কৌশলগত ফাউল ও কঠোর ট্যাকলের মুখে ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে বেশ ভুগতে হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, “প্যারাগুয়ে ভেবেছিল আমরা কেবল সুন্দর ফুটবল খেলার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামব। কিন্তু তারা ভুল ছিল। প্রয়োজনে আমরাও কঠিন ফুটবল খেলতে জানি।” তার এই মন্তব্য বুঝিয়ে দিচ্ছে, কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে, মরক্কোও টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়ে আসছে। কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে ভিন্ন দুই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়েছে দলটি। মরক্কোর এই অপ্রতিরোধ্য ফর্মের বিপরীতে এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত সাতটি গোল করে লিওনেল মেসির সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। দলের মূল লক্ষ্য ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে নেওয়া এবং টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।
ফ্রান্সের কৌশলী আক্রমণ এবং এমবাপ্পের গোল করার সক্ষমতার সামনে মরক্কোর জমাট রক্ষণভাগ কতটা টিকে থাকতে পারে, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এমবাপ্পের এই হুঙ্কার কি মাঠের লড়াইয়ে মরক্কোকে চাপে ফেলবে, নাকি মরক্কোর অদম্য মনোবল ফ্রান্সের অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে সেটাই দেখার অপেক্ষা।
এমবাপ্পের এই কঠোর মানসিকতা ফ্রান্সকে মরক্কোর বিপক্ষে কতটা বাড়তি সুবিধা দেবে বলে আপনি মনে করেন? মরক্কোর রক্ষণভাগের বিপক্ষে এমবাপ্পে কি পারবেন তার গোল করার ছন্দ ধরে রাখতে? আমাদের কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।
মন্তব্য করুন