সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরান এখন এক চরম ক্রান্তিকাল পার করছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার এই সময়ে খামেনির জানাজা দেশটির জনগণের মধ্যে এক নতুন জাতীয় সংহতির বার্তা নিয়ে এসেছে বলে মত দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। রাজধানী তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে আজ লাখো মানুষের সমাগম হতে যাচ্ছে, যা খামেনির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।
সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আব্বাস আসলানি এই ঘটনাকে কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে না দেখে বরং একে একটি বৈশ্বিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, দুই পরাশক্তির চাপের মুখে ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন খামেনি। তার এই বিদায় শুধু শোকের নয়, বরং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটে পুরো দেশকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসার বড় সুযোগ হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমান সময়ে একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি ও যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত জটিল আলোচনা, অন্যদিকে দেশের সীমান্তে যুদ্ধের কালো ছায়া সব মিলিয়ে ইরান এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির এই জানাজা এবং শোকের আবহাওয়া দেশের জনগণকে তাদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ভুলে রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই শোক অনুষ্ঠান থেকে প্রেরণা নিয়ে ইরান তাদের জাতীয় সুরক্ষায় আরও দৃঢ় অবস্থান নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খামেনির বিদায় তাই ইরানের ইতিহাসে কেবল একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক ঐক্যের শপথ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
মন্তব্য করুন