সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের শুরুতেই প্রকৃতি যেন রাজধানীতে দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেছে। রাতভর টানা বর্ষণ এবং রোববার ভোরের মুষলধারে বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকা শহরের জনজীবন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত মাত্র ছয় ঘণ্টায় রাজধানীতে রেকর্ড করা হয়েছে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। জুলাই মাসের এই সময়ে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের ঘটনা, যার ফলে শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত তলিয়ে গেছে পানিতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রিনরোড, তেজতুরী বাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, কালশী, মালিবাগ ও মতিঝিলসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। অনেক এলাকায় সড়ক ও ফুটপাতের পার্থক্য বোঝা দায় হয়ে পড়ায় পথচারীরা চরম ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছেন। বিশেষ করে শেওড়াপাড়া এলাকার চিত্র ছিল সবচেয়ে নাজুক, যেখানে প্রধান সড়কের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোও এখন পানির নিচে। এই জলাবদ্ধতায় যানবাহন চলাচল প্রায় থমকে গেছে এবং অফিসগামী মানুষ ও জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া যাত্রীরা পড়েছেন তীব্র বিড়ম্বনায়।
যানবাহনের তীব্র সংকট এবং রিকশা ভাড়ার নৈরাজ্য নগরবাসীর ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বছরের পর বছর ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের কথা শোনা গেলেও সামান্য বৃষ্টিতেই কেন শহরকে এভাবে ডুবতে হয়, তার কোনো সদুত্তর মিলছে না। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতার এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট থেকে নগরবাসী যেন আজও মুক্তি পায়নি। বৃষ্টির এই ধারায় কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা আধুনিক নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকার এভাবে তলিয়ে যাওয়ার পেছনের আসল কারণ হিসেবে আপনি কোনটিকে দায়ী মনে করেন পরিকল্পনার অভাব নাকি রক্ষণাবেক্ষণের গাফিলতি?
মন্তব্য করুন