রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১০ মাসে বরাদ্দ নেওয়া ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি তহবিলের মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) বিভিন্ন পদের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নানা কর্মসূচির নামে অগ্রিম টাকা নিলেও নির্দিষ্ট সময়ে তার হিসাব বা ভাউচার জমা দেননি।
নথি অনুযায়ী, রাকসুর সহ-সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বিভিন্ন ধাপে ১৩ লাখ টাকার বেশি নিলেও এর একটি বড় অংশের ভাউচার এখনো জমা দেননি। তবে তার দাবি, মেয়াদের এখনো কিছুটা সময় বাকি রয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তিনি সব হিসাব বুঝিয়ে দেবেন। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার সর্বোচ্চ ২৩ লাখ টাকারও বেশি বরাদ্দ নিয়েছেন, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশের হিসাবও এখনো জমা হয়নি। এ ছাড়াও ক্রীড়া সম্পাদক, বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধেও অগ্রিম নেওয়া অর্থের বিল যথাসময়ে জমা না দেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
এই বিষয়ে রাকসুর সাবেক নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ জানিয়েছেন, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক বিধি অনুযায়ী অগ্রিম নেওয়া কোনো অর্থের হিসাব বা ভাউচার সমন্বয় না করে পরবর্তী ধাপে নতুন করে অর্থ উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। এদিকে রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান এবং সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত সঠিক নিয়মে সব বিল-ভাউচার ও আর্থিক হিসাব জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন