ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার বাবা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির তুলনায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বেশি আগ্রহী হতে পারেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত আলী খামেনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিলেও সরাসরি পারমাণবিক বোমা তৈরির বিরোধিতা করতেন। যদিও মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেননি, তবুও মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা তিনি এবং ইরানের নতুন কট্টরপন্থী নেতৃত্ব ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বেছে নিতে পারেন। মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন যদি ইরানকে এই পথে ঠেলে দেয়, তবে তা হবে বর্তমান সংঘাতের একটি বড় কৌশলগত পরিণতি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনির মনোভাব সম্পর্কে অধিকাংশ গোয়েন্দা তথ্যই বর্তমান সংঘাত শুরুর আগের। তাছাড়া চলমান সংঘাতে তিনি গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকেই জনসমক্ষে তার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। টানা ৩৬ বছর ক্ষমতায় থাকা আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের এই ক্ষমতার পালাবদলের মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
এদিকে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করেনি। তবে মার্কিন হামলার পর দেশটির পারমাণবিক অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কিছু সেন্ট্রিফিউজ মধ্য ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন