কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন প্রিয়া বর্মণ (২১) নামের এক গ্রিস প্রবাসীর স্ত্রী। জন্ম নেওয়া এই তিন নবজাতকের মধ্যে দুজন ছেলে এবং একজন মেয়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার ডা. ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে সফল এই সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে মা ও তিন নবজাতকই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভৈরব পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার গ্রিস প্রবাসী বিজয় বর্মণের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে প্রিয়া বর্মণের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিনি ডা. ইসরাত জাহানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরম চিকিৎসায় তিনি গর্ভধারণ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তীব্র প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত দুইটার দিকে সিজারিয়ানের মাধ্যমে নবজাতকদের প্রসব করানো হয়।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এ.জেড.এম ফরহাদ জানান, নির্ধারিত সময়ের একটু আগে, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে সাত মাসের মাথায় গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতা ও প্রসব ব্যথা নিয়ে প্রিয়া বর্মণকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাৎক্ষণিক অবস্থা বিবেচনা করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একে একে তিন সন্তানকে নিরাপদে প্রসব করান তারা। তিনি আরও জানান, তাদের এই হাসপাতালে এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো একসঙ্গে তিনটি করে সন্তান সফলভাবে জন্ম নেওয়ার রেকর্ড হলো।
এদিকে সিনিয়র স্টাফ নার্স জিবা আক্তার জানান, জন্মকালে শিশুদের ওজন কিছুটা কম থাকায় তাদের সুরক্ষার জন্য ২৪ ঘণ্টা এনআইসিইউতে (NICU) রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে তারা সবাই বিপদমুক্ত রয়েছে। নবজাতকদের ফুফু রূপা বর্মণ জানান, গর্ভাবস্থার দুই মাস বয়স থেকেই তারা তিন সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত সেবা নিয়েছেন। পরিবারের নতুন অতিথিদের এমন একসঙ্গে আগমনে পুরো পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। তিন সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে আদর্শ মানুষ ও দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চান বলে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন নবজাতকদের মা প্রিয়া বর্মণ।
মন্তব্য করুন