বিশ্বকাপের ফাইনাল ও সেমিফাইনালের অনাকাঙ্ক্ষিত বেশ কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। মাঠের হাতাহাতি, অসদাচরণ এবং রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগে আর্জেন্টিনা দলের একাধিক খেলোয়াড়, কোচ এবং এএফএ-র বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলামূলক তদন্ত ও চার্জ গঠন করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। গত ১৯ জুলাই স্পেনের কাছে ১-০ গোলে ফাইনাল হারের পর মাঠের ভেতরেই দুই দলের খেলোয়াড়রা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন, যার ফলশ্রুতিতে এখন কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির চার্জ অনুযায়ী, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্তদের মধ্যে মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে ৩টি এবং ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে ২টি শারীরিক আক্রমণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি দলের সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকেও ১টি আক্রমণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া অসদাচরণের দায়ে মোলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের খেলোয়াড় গাভির বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মাঠের ভেতরের এসব ঘটনার বাইরে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর মাঠে ‘মলভিনাস দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার প্রদর্শনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা ছড়ানোর দায়েও অভিযুক্ত করা হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ সরকারের আপত্তির মুখে ফিফা এই বিষয়টিকে ক্রীড়া ইভেন্টের রাজনৈতিক অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
খেলোয়াড় ও কোচদের ব্যক্তিগত অপরাধের পাশাপাশি পুরো বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ফিফা। গ্যালারি থেকে দর্শকদের বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক স্লোগান, মাঠের ভেতরে বস্তু নিক্ষেপ এবং বিভিন্ন শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ফিফার মুখপাত্র জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সকল ব্যক্তি ও সংস্থাকে তাদের নিজ নিজ লিখিত ব্যাখ্যা ও অবস্থান জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের জবাব পর্যালোচনার পরই ফিফার শৃঙ্খলামূলক কমিটি এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও শাস্তির ঘোষণা দেবে।
মন্তব্য করুন