তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে টানা চার দিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পর অবশেষে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় জেলার কারখানাগুলোতে পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দল বেঁধে কাজে যোগ দিয়েছেন কর্মহীন হয়ে পড়া হাজার হাজার শ্রমিক, আর কারখানা সচল রাখতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন যে, শুক্রবার রাত থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছিল এবং শনিবার সকালের মধ্যে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর সমস্যা দেখা না দিলে শনিবারের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার ও স্কয়ার ডেনিম লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন জানান, শুক্রবার রাত আড়াইটা থেকে সকালের মধ্যে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়ার পরই তারা জেনারেটর ও মিলের অন্যান্য মেশিন চালু করতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘদিন মিল বন্ধ থাকায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসান ও রপ্তানি আদেশ বাতিলের শঙ্কার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর গ্যাস পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে উদ্যোক্তা মহলে।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই থেকেই হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করতে শুরু করেছিল এবং গত বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে পরিস্থিতি চরম রূপ নিয়ে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জেলার ১৭১টি শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল এবং কোম্পানিগুলোকে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছিল। তবে সংকট নিরসনে গ্যাস কর্তৃপক্ষের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আশ্বাসের বাস্তবায়ন ঘটিয়ে শুক্রবার রাত থেকেই সরবরাহ সচল করা হয়। কারখানাগুলো বন্ধ থাকলেও কোনো প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করেনি, বরং গ্যাস চালুর সঙ্গে সঙ্গেই শ্রমিকরা আনন্দচিত্তে কর্মস্থলে ফিরে আসায় হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে ফের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
মন্তব্য করুন