ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর বিশ্বকাপ ফুটবল আবার নতুন রূপে হাজির হচ্ছে। ১৯৩০ সালে মাত্র ১৩টি দল নিয়ে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়তে বাড়তে ২০২৬ সালের আসরে ৪৮টি দেশে এসে দাঁড়িয়েছে। ফিফার এই বিশাল আয়োজনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পুরস্কারের অর্থও। নতুন এই আসরে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য ফিফা মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে, যা গত আসরের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। এই বিশাল আর্থিক প্রবাহ কেবল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নে একটি বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের একটি সুনির্দিষ্ট অংশ বিশ্বের সব সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। ফলে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বাফুফে এই আর্থিক সুবিধার বাইরে থাকছে না। ফিফার ‘ফিফা ফরওয়ার্ড’ উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো তাদের ফুটবল পরিকাঠামো উন্নয়ন, নতুন খেলোয়াড় তৈরির প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার জন্য নিয়মিত অনুদান পেয়ে থাকে। বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ও প্রতিযোগিতার মানকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বরাদ্দ করা অর্থের পরিমাণও এবার চোখ ধাঁধানো। প্রতিটি দল প্রস্তুতির জন্য শুরুতেই ২.৫ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। এরপর প্রতিটি ধাপ বা রাউন্ড পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পুরস্কারের অঙ্ক বাড়তে থাকবে। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো মোট ১২.৫ মিলিয়ন ডলার এবং দ্বিতীয় রাউন্ড বা শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়া দলগুলো ১৬ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। এছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের জন্য ২০ মিলিয়ন এবং সেমিফাইনালিস্টদের জন্য ২৭ থেকে ৩৩ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলটি পাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে ফিফার এই আর্থিক বণ্টন ব্যবস্থা যেমন দলগুলোকে উৎসাহিত করছে, তেমনি সদস্য দেশগুলোর ফুটবলের ভীত মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্তব্য করুন