ইউরোপীয় শীর্ষ ক্লাবগুলোর তীব্র ক্ষোভ ও ভবিষ্যতের ক্লাব বিশ্বকাপ বয়কটের কড়া হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগে চালিত বিতর্কিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও সংকট তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩১ জুলাই, যখন ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবস বা ইএফসি ফিফার মহাসচিব মাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে একটি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ২০২৮ সালের নারী ক্লাব বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির আগেই ফিফা ও ইএফসির যৌথ উদ্যোগ গঠন না করলে ভবিষ্যতের কোনো টুর্নামেন্টে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর কোনো সমর্থন থাকবে না। এমনকি ২০২৮ ও ২০২৯ সালের নারী ও পুরুষ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ বয়কটের হুংকারও দেয় তারা। ইএফসির প্রধান নির্বাহী চার্লি মার্শাল সতর্ক করে জানান যে, ফিফার এই একতরফা কর্মকাণ্ড তাদের বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের গুরুতর লঙ্ঘন। ক্লাবগুলোর মূল উদ্বেগ ছিল, এফএফই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সম্প্রচার, বাণিজ্যিক এবং স্পনসরশিপের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ফিফার নিজস্ব বলয়ে চলে যাবে, যা যৌথ উদ্যোগের পরিপন্থী।
ক্রমবর্ধমান সমালোচনা ও বড় ধরনের সংকটের আঁচ পেয়ে গত ১ আগস্ট ইনফান্তিনো শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কিত এফএফই পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করেন। তবে বিরোধ এখানেই শেষ হচ্ছে না; ইএফসি ফিফার কাছে ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত মোট উদ্বৃত্ত আয়, লাভ-ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং অংশগ্রহণ না করা ক্লাবগুলোর জন্য নির্ধারিত ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বা ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল বিতরণে বিলম্বের কারণ জানতে চেয়েছে। ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর এই শক্ত অবস্থানের মুখে ফিফা অবশ্য যৌথ উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়ে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো যদি শেষ পর্যন্ত সত্যি সত্যি কোনো টুর্নামেন্ট বয়কট করে, তবে ফিফার ক্লাব বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টগুলোর আয়োজন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
মন্তব্য করুন