জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক বয়ানে পরিণত না করে প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার সকালে রাজধানীর গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে দলীয়করণের যে অভিযোগ ছিল, জুলাই অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে যেন তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার তাগিদ দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন যে, জাদুঘরের বর্তমান প্রদর্শনীতে ইতিহাসের কিছু অংশ অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং পরিচিত কিছু মুখ বা ঘটনার উপস্থিতি বারবার এলেও গণঅভ্যুত্থানের বিস্তৃত পরিসর, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ সেভাবে উঠে আসেনি। তিনি সময়ের ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের ঘটনা সাজানোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের ইতিহাস আলাদাভাবে তুলে ধরার ওপর জোর দেন। বিগত ১৬ বছরে দেশের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষয়তির পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, ভারতবিরোধী আন্দোলন এবং মানুষের প্রতিরোধ ও বিজয়ের ইতিহাসও যথাযথভাবে সংরক্ষণের দাবি জানান তিনি।
জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর চাপ সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই এবং বর্তমান ১৫-২০ জন কর্মী দিয়ে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ এবং জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেন এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে জাদুঘরটিকে একটি স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোয় পরিচালনার দাবি জানান তিনি। এছাড়া গণভবনের পুরো ১৭ একর জায়গাকে কাজে লাগিয়ে জাদুঘরের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি শহীদ আবু সাঈদের ছবিসহ শহীদদের পরিবারের দেওয়া অন্যান্য স্মৃতিচিহ্নগুলো আরও শৈল্পিকভাবে প্রদর্শনের তাগিদ দেন এই এনসিপি নেতা।
মন্তব্য করুন