ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীক কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। ছয় মাস পর শনিবার (২৭ জুন, ২০২৬) সকালে খোলা হয়েছে এই মসজিদের ১৩টি লোহার সিন্দুক ও ৩টি ট্রাঙ্ক। সিন্দুকগুলো খোলার পর পাওয়া গেছে ৪৩ বস্তা দেশি-বিদেশি মুদ্রাসহ প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের ধারণা, এবার আগের সব রেকর্ড ভেঙে কয়েকগুণ বেশি দান পাওয়া যাবে।
সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে এই সিন্দুকগুলো খোলা হয়। রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেসী জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ কোটি টাকা গণনা করে ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। পুরো টাকা গণনার কাজ শেষ করতে রাত সাড়ে ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন মসজিদটি নিয়ে মানুষের অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। যেকোনো মানত পূরণে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এখানে দান করে থাকেন, যার ফলে প্রতি তিন মাস অন্তর দানবাক্সগুলো ভরে ওঠে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যাব এবং আনসার বাহিনীর শতাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানিয়েছেন, দানের এই টাকা মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং অসহায় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ব্যয় করা হয়। এছাড়া এখানে ৩০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের উপযোগী একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলমান। বর্তমানে এই তহবিলে ব্যাংকে ১১৪ কোটি টাকা জমা রয়েছে এবং স্বচ্ছতার জন্য অনলাইনেও দানের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন