জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী ৩৭০ ধারা বাতিল না হলে ইতিহাস অন্যরকম হতে পারত। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে এমনটাই দাবি করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ। তার মতে, ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি দুই অংশের কাশ্মীরকে মানসিকভাবে আরও দূরে ঠেলে দিয়েছে। যদি এই বিশেষ মর্যাদা বজায় থাকত, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর বা পিওজেকে নিজেদের ইচ্ছাতেই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বিবেচনা করতে পারত।
ফারুক আবদুল্লাহর এই মন্তব্যের মূল ভিত্তি ছিল দুই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং জীবনযাত্রার মান। অতীতে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো এবং প্রগতির ছোঁয়া পেয়ে যে আস্থার জায়গায় ছিল, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের ফলে সেই আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, একসময় ওপার কাশ্মীরের মানুষ যখন দেখত এপার কাশ্মীরের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা, উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা, তখন তারা ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করছিল। কিন্তু বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর সেই আকর্ষণের জায়গাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা কাশ্মীর সংকটের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পীর পঞ্জালের ওপারে থাকা অংশটি বর্তমানে পাকিস্তানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সেখানকার অর্থনৈতিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রায়শই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসে। ফারুক আবদুল্লাহর এই বক্তব্য নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে যে, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষাই হয়তো দুই অঞ্চলের ব্যবধান ঘুচিয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ প্রশস্ত করতে পারত। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের মন্তব্য কেন্দ্র সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনার সঙ্গেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন