|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 12, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ও নরওয়ের স্বপ্নভঙ্গ: বিশ্বকাপে নরওয়ের গল্প

ঘড়ির কাঁটা যেন থমকে গিয়েছিল অসলোর রাস্তায়। রেস্তোরাঁর কর্মীরা কাজে বিরতি দিয়ে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন, হাসপাতালের করিডরে রোগীর স্বজনরা ভুলে গিয়েছিলেন আপন দুশ্চিন্তা সবাই যেন এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নরওয়ে যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে পা রেখেছিল, তখন তা কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট ছিল না, ছিল একটি জাতির আবেগ ও সম্মিলিত স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ। তিন প্রজন্মের মানুষ টিভির সামনে বসে দেখেছিলেন সেই দৃশ্য, যেখানে দাদা মনে করেছিলেন ১৯৯৮-এর স্মৃতি, আর নাতি প্রথমবারের মতো দেখছিল তার দেশের জাতীয় পতাকা বিশ্বকাপের উত্তাপে উড়ছে।

নরওয়ের এই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আরলিং হলান্ড। ক্লাব ফুটবলের গোলমেশিন এই স্ট্রাইকারকে ঘিরে প্রতিটি নরওয়েজিয়ান স্বপ্ন দেখেছিল আকাশের উচ্চতায় পৌঁছানোর। প্রতিটি ম্যাচে যখনই হলান্ড বল পায়ে প্রতিপক্ষের বক্সের দিকে এগিয়ে যেতেন, সারা দেশের নিঃশ্বাস আটকে যেত। তার প্রতিটি দৌড়ে মিশে ছিল একটি জাতির দীর্ঘদিনের আকুলতা। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত নরওয়ের এই অপ্রতিরোধ্য যাত্রা প্রতিটি সমর্থককে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিল যে, ইতিহাস গড়ার সময় বুঝি এসেই গেছে।

কিন্তু ফুটবল প্রায়শই তার নির্মম রূপটি তুলে ধরে ঠিক সেই মুহূর্তেই, যখন স্বপ্ন সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে নরওয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় ১-২ গোলের ব্যবধানে। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো দেশ। কোনো শিশু কেঁদেছিল, কোনো বৃদ্ধ স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলেন অগণিত স্মৃতির ভারে। কিন্তু এই পরাজয়ই শেষ কথা নয়। ২৮ বছর পর ফিরে এসে হলান্ড ও তার দল যে উত্তেজনা ও আত্মবিশ্বাস উপহার দিয়েছে, তা নরওয়ের ফুটবলে এক নতুন জোয়ার নিয়ে এসেছে।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার সাথে সাথে জীবন আবার নিজস্ব গতিতে ফিরেছে। ব্যস্ত শহর আবার সচল হয়েছে, মানুষ আবার কাজে ফিরেছে। কিন্তু এই ৯০ মিনিটের লড়াইগুলো রয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়। কোনো এক বাবা হয়তো ভবিষ্যতে তার সন্তানকে বলবে, "২০২৬ সালে আমরা আবার বিশ্বকাপে ফিরেছিলাম, আমরা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে লড়েছিলাম।" নরওয়ের ফুটবল এই বিশ্বকাপ থেকে হয়তো ট্রফি নিয়ে ফিরতে পারেনি, কিন্তু জয় করেছে লক্ষ-কোটি মানুষের হৃদয় এবং শিখিয়েছে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস। পৃথিবী কোনো ফুটবল ম্যাচের জন্য থেমে থাকে না ঠিকই, কিন্তু কিছু মুহূর্ত চিরকাল মানুষের স্মৃতির মণিকোঠায় জ্বলজ্বল করে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে ঘিরে স্যাবোটাজ শঙ্কা

1

পাবনায় রূপপুর প্রকল্পের রুশ নাগরিকবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষ

2

টাঙ্গাইলে পুরোনো প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা: শঙ্কার মুখে ১৪

3

আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিস্ফোরক ইঙ্গিত মোহাম্মদ সা

4

বেনজীরকে ফেরাতে দুদকের তৎপরতা

5

দেশে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবেন সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারে

6

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে লিথুয়ানিয়ার

7

পুশইন বন্ধের দাবিতে জামায়াত-এনসিপি জোটের বিক্ষোভ

8

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস: নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানার অনুমোদন পেল

9

নেপালের রাজনীতিতে নতুন মোড়: তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের মুখে প্রধ

10

অনলাইন জুয়া ও বেটিং চক্রের সুপার এজেন্ট অহিদুর রহমান র‍্যাবে

11

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন ২০

12

না ফেরার দেশে আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরান

13

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ৪ দিনের রিমান্ডে

14

শিক্ষা ক্যাডার থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলেন ২২ কর্মকর্তা

15

পরাজয় নিশ্চিত জেনেও রাষ্ট্রপতি পদে লড়ছেন কর্নেল অলি আহমদ, জ

16

কাতারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার

17

হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার ইনু ও মেনন

18

সুপার অ্যাপের পথে টিকটক: ভিডিওর বাইরেও মিলবে সব সুবিধা

19

মুর্শিদাবাদে সীমান্ত বেড়া নির্মাণের বলি ১৯ পরিবারের ভিটে

20