দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jun 9, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কাশ্মীরে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে পুলিশসহ নিহত ১১

০ শেয়ার
কাশ্মীরে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে পুলিশসহ নিহত ১১
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে সাধারণ নির্বাচন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশকে ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
  • সোমবারের এই চরম সহিংসতায় অন্তত ১১ জনের নির্মম মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি মানুষ।
  • স্থানীয় জেলা প্রশাসন জানিয়েছে নিহতদের মধ্যে চারজন পুলিশ কর্মকর্তা, ছয়জন বিক্ষোভকারী এবং একজন সাধারণ পথচারী রয়েছেন।

আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশকে ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবারের এই চরম সহিংসতায় অন্তত ১১ জনের নির্মম মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি মানুষ। স্থানীয় জেলা প্রশাসন জানিয়েছে নিহতদের মধ্যে চারজন পুলিশ কর্মকর্তা, ছয়জন বিক্ষোভকারী এবং একজন সাধারণ পথচারী রয়েছেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় পুরো অঞ্চলে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অংশ হিসেবে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল স্থানীয় স্বনামধন্য নাগরিক অধিকারভিত্তিক সংগঠন যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি। তবে এই কর্মসূচি শুরুর আগেই পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরো এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জারি করা হয় ব্যাপক প্রশাসনিক বিধিনিষেধ।

আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে বিতর্কিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সম্প্রতি যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় প্রশাসন। এই আইনি নিষেধাজ্ঞার পরপরই কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তরে স্বতঃস্ফূর্ত গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারী সাধারণ মানুষের অভিযোগ সংগঠনটির নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তিকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাধারণ জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুরোপুরি খর্ব করা হচ্ছে। সোমবার সকালে রাওয়ালকোটের একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গের সামনে হাজারো ক্ষুব্ধ মানুষ জড়ো হলে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় কারণ এর আগে পুলিশের গুলিতে নিহত এক প্রগতিশীল সমাজকর্মীর মরদেহ সেখানে রাখা হয়েছিল।

সেখানে উপস্থিত সাধারণ প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী মর্গের সামনে জড়ো হওয়া শান্তিপূর্ণ জানাজা ও প্রতিবাদী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত নিরাপত্তা বাহিনী এগিয়ে এলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সংঘাত ও ধাওয়া পালটা ধাওয়া আশপাশের বিশাল এলাকায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি বিক্ষোভকারীদের একটি উগ্র অংশ প্রথমে পুলিশকে লক্ষ্য করে আকস্মিক গুলি বর্ষণ শুরু করে যার ফলে ঘটনাস্থলেই চারজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর আত্মরক্ষার্থে এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে নিরাপত্তা বাহিনী পালটা অ্যাকশনে গেলে ছয়জন আন্দোলনকারী নিহত হন। তবে প্রশাসনের এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন যে নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর অতিরিক্ত ও মরণঘাতী বলপ্রয়োগ করেছে এবং নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি খতিয়ানের চেয়ে আরও অনেক বেশি।

কাশ্মীরের এই দীর্ঘমেয়াদি গণআন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে মূলত ৪৫ সদস্যের আঞ্চলিক আইনসভায় নতুন করে ১২টি আসন উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষণ করার বিষয়ে ইসলামাবাদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। এসব উদ্বাস্তু মূলত পাকিস্তানের অন্যান্য দূরবর্তী প্রদেশে বসবাস করেন যার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ এই সিদ্ধান্তের কারণে কাশ্মীরের মূল জনগণের প্রতিনিধিত্ব মারাত্মকভাবে কমে যাবে এবং সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাইরের প্রদেশের রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেড়ে যাবে। এর পাশাপাশি বর্তমানের লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধি, তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, চরম বেকারত্ব এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বঞ্চনার অভিযোগও এই গণআন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

বিগত প্রায় দুই বছর ধরে এসব জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন পরিচালনা করে আসছিল অধিকারকর্মী ও সাধারণ জনগণের এই যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি। এদিকে কাশ্মীরের এই আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির পর কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ইতিমধ্যে তাদের নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এই অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে রাওয়ালকোটের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন। সংস্থাটি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে কাশ্মীরের ঘটনার প্রকৃত সত্য ও মাঠপর্যায়ের চিত্র উদঘাটন করতে খুব শিগগিরই একটি উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধানী দল পাঠানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

অভিনেতার প্রতি ঘৃণাই ছবির ব্যর্থতার কারণ! সমালোচনার মুখে ‘খলিফা’ পরিচালক

2

১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে ইনুর আপিল

3

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ, চমক দিতে চায় জ্যোতির দল

4

দুর্যোগ মোকাবিলায় ১ লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুতের পরিকল্পনা

5

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩১৯

6

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী দুটি জাহাজে হামলা

7

মেজর মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে হবে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

8

তৃতীয় বিয়ের এক মাস কাটতে না কাটতেই আমিরের বাড়িতে দুঃসংবাদ, কী হলো হঠাৎ?

9

কে হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারির স্বামী টাইলার জাকারিয়া?

10

মক্কাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি