ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে জীবন বাঁচাতে ভারতের উদ্দেশে দেশত্যাগ করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তার সেই হঠাৎ দেশত্যাগের নাটকীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাপ্রবাহ এখনও পুরোপুরি রহস্যাবৃত। কোন প্রক্রিয়ায়, কার বা কাদের পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় তিনি আকাশপথে দেশ ছাড়লেন এবং সে সময়কার গোপন কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা কেমন ছিল তা নিয়ে সম্প্রতি যুগান্তরের এক বিশেষ প্রতিবেদনে নতুন কিছু তথ্য উঠে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী কিংবা সরকারিভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বা বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন সামরিক ও গোয়েন্দা সূত্র থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কিছু স্পর্শকাতর তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে যখন হাজারো ছাত্র-জনতা গণভবনের দিকে প্রবল স্রোতের মতো এগিয়ে আসছিল, ঠিক তখনই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বেগতিক দেখে হাসিনাকে মাত্র ৩০ মিনিট সময় বেঁধে দিয়ে দ্রুত গণভবন ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর সামরিক বাহিনীর এমআই-১৭ মডেলের একটি হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা তেজগাঁওয়ের কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছান। ওই উদ্ধার মিশন বা রেসকিউ অপারেশনের সঙ্গে বিমানবাহিনীর উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটি থেকে সি-১০৩ জুলিয়েট নামের একটি সামরিক পরিবহন বিমানে করে তাকে দিল্লির হিন্দন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার খাতিরে ওই ফ্লাইটের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে এবং প্রচলিত রুট এড়িয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই যাত্রা সম্পন্ন করা হয়েছিল।
ভারতের মাটিতে অবতরণের পর দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। এদিকে এই পুরো রেসকিউ মিশনের সঙ্গে জড়িত পাইলট, কো-পাইলট এবং সামরিক কর্মকর্তাদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত হন। কারও কারও ক্ষেত্রে প্রটোকল অনুযায়ী পোস্টিং বা বিদেশে সামরিক কোর্সে প্রেরণের মতো ঘটনাও ঘটে। তবে এ ধরনের স্পর্শকাতর সামরিক দায়িত্ব পালনকে পেশাগত ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে ওই মুহূর্তে দায়িত্ব পালন করলেও, দীর্ঘমেয়াদে এই দেশত্যাগের পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সত্যতা জানতে সাধারণ মানুষ ও গবেষকদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।
মন্তব্য করুন