ইউক্রেনে চলমান সংঘাতের মাঝে কোনো ধরনের তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি হতে হবে একটি সুদূরপ্রসারী এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের অংশ। যুদ্ধ থামানোর নামে তাৎক্ষণিক কোনো সমঝোতায় মস্কো রাজি নয়।
সম্প্রতি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পশ্চিমা দেশগুলো যে অস্ত্র ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে মস্কো আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। তার অভিযোগ, রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মদদ ও প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। ওয়াশিংটন নিয়মিতভাবে কিয়েভকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে দাবি করে ল্যাভরভ জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে রাশিয়া।
পশ্চিমা বিশ্ব এবং মার্কিন নীতির কড়া সমালোচনা করলেও আলোচনার পথ একেবারে বন্ধ করে দেয়নি মস্কো। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্র যদি আন্তরিক ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে চায়, তবে রাশিয়া সংলাপে বসতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে কিয়েভকে পশ্চিমা সামরিক সাহায্যের তীব্র বিরোধিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংলাপের দরজা খোলা রাখার কৌশল নিয়েছে ক্রেমলিন।
মন্তব্য করুন