ইনস্টাগ্রামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে নস্টালজিয়া তৈরির মেশিনে রূপ দেওয়ার এক নতুন ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে ফিড ও স্টোরিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ১৯৮০-এর দশকের আদলে তৈরি করা কিছু আকর্ষণীয় পোর্ট্রেট বা ছবি। সাধারণ কোনো ছবির ওপর পুরোনো দিনের ভিন্টেজ ফিল্টার বসিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন না ব্যবহারকারীরা; বরং ছবিগুলো চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করে চুল, পোশাক, অনুষঙ্গ, ব্যাকগ্রাউন্ড ও ফটোগ্রাফিক টেক্সচার বদল করে পুরো দৃশ্যপটটিকেই চার দশক আগের যুগে রূপান্তর করছেন।
এই ট্রেন্ডটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে একটি বড় ভূমিকা রয়েছে ইনস্টাগ্রামের “Add Yours” স্টিকারের। ব্যবহারকারীরা তাদের তৈরি ছবি স্টোরিতে শেয়ার করার পাশাপাশি এই স্টিকার যুক্ত করে বন্ধু ও ফলোয়ারদেরও নিজেদের মতো করে ১৯৮০-এর দশকের পোর্ট্রেট বানানোর আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। ফলে আজকের সেলফি বা ছবি চার দশক আগের কোনো পারিবারিক অ্যালবাম, ফিল্ম স্টিল, ম্যাগাজিন কভার বা স্টুডিও পোর্ট্রেটে কেমন দেখতে লাগত, তা ফুটিয়ে তোলার উন্মাদনা তৈরি হয়েছে নেটদুনিয়ায়।
কীভাবে তৈরি করবেন এই ছবি? ১. পরিষ্কার ও মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায় এমন একটি ছবি নির্বাচন করুন। সেলফি বা সাধারণ পোর্ট্রেট হলেও চলবে। ২. ছবিটি চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করুন এবং আপনার কাঙ্ক্ষিত ১৯৮0-এর দশকের রূপ সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা বা প্রম্পট দিন। ৩. প্রম্পটে পোশাক, হেয়ারস্টাইল, আনুষঙ্গ, আলো এবং ফটোগ্রাফিক টেক্সচারের (যেমন: অ্যানালগ ফিল্ম গ্রেইন, সামান্য ফেকড কালার, সফট ফোকাস) কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে পারেন। ৪. মুখাবয়ব ও আসল পরিচয় যেন ঠিক থাকে, সে বিষয়ে এআই-কে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিন। ৫. প্রথমবারে আশানুরূপ ফল না পেলে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে চ্যাট করে নির্দিষ্ট বিবরণগুলো পুনরায় পরিমার্জন (Iterative process) করে নিন।
সতর্কতা এআই দিয়ে তৈরি এসব ছবি প্রথম নজরে বেশ নিখুঁত মনে হলেও হাত, গয়না, পোশাকের প্যাটার্ন বা ব্যাকগ্রাউন্ডে ছোটখাটো ভুল থাকতে পারে। তাই পোস্ট করার আগে ছবি ভালোমতো যাচাই করে নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে গোপনীয়তা বজায় রাখতে সংবেদনশীল তথ্যযুক্ত ছবি বা অন্যের অনুমতি ছাড়া অন্য কারও ছবি আপলোড করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
মন্তব্য করুন