ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর জালিয়াতি করে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা তোলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসংক্রান্ত সংবাদের প্রতিবাদ জানাতে তজুমদ্দিন উপজেলা শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এই জামায়াত নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে মো. মহিউদ্দিন দাবি করেন, সংবাদে তাকে যে ৪৬০৬ নম্বর ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার মূল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ৮০৫, যা দিয়ে তিনি বিগত ১৭ বছর ধরে নিয়মমাফিক নিজের বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। একই নামের দুই ব্যক্তির কারণে প্রশাসনিক তথ্যে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি। রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতেই একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত নেতা।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আলাদা বিবৃতি দিয়েছে জেলা জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. নুরুজ্জামানের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে এই বানোয়াট প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। এত বছর পর এমন অভিযোগ তোলার পেছনে সুপারের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে এবং মানহানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে জেলা জামায়াতে ইসলামী।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা সুপার মো. নুরুজ্জামান সম্প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, ১৯৯৪ সালে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক মহিউদ্দিন ২০২৫ সালে মারা যাওয়ার পর থেকে ওই পদ শূন্য হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, ২০০৬ সালে নিয়োগ পাওয়া অন্য এক মহিউদ্দিন নামের ব্যক্তি পূর্বের মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। ইতিমধ্যে ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানিয়েছেন, পুলিশের বিশেষ টিমের প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
মন্তব্য করুন