জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন বিল গেটস। তিনি স্বীকার করেছেন, এপস্টেইনের অপরাধের অতীত সম্পর্কে তিনি জানতেন। বিস্তারিত পড়ুন প্রতিবেদনে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জেফরি এপস্টেইন ও বিল গেটসের সম্পর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির কাছে দেওয়া রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যের অনুলিপি থেকে জানা যায়, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিল গেটস এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। গেটস স্বীকার করেছেন যে, তিনি জানতেন এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অতীত রেকর্ড রয়েছে, তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি সে সময় গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি,যা তার ভুল ছিল বলে তিনি এখন স্বীকার করছেন।
সাক্ষাৎকারে গেটস দাবি করেন, মূলত তার দাতব্য কাজের জন্য বড় দাতাদের আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যেই তিনি এপস্টেইনের সান্নিধ্যে গিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে যখন তিনি বুঝতে পারেন যে এপস্টেইন তার প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ, তখন তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এপস্টেইন তার বন্ধু ছিলেন না এবং তিনি কখনোই এপস্টেইনের কুখ্যাত সেই দ্বীপে যাননি। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু ইমেইল বা ফাইল প্রসঙ্গে গেটস সেগুলোকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এপস্টেইনকে কোনো অর্থ প্রদানের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফও কমিটির কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। ২০০৭ সালের অ-প্রসিকিউশন চুক্তিতে নিজেকে ‘সহ-ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে অভিহিত করার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন তিনি। গ্রফের দাবি, তিনি এপস্টেইনের মূল অপরাধগুলো সম্পর্কে জানতেন না এবং এপস্টেইনের চারপাশে তৎকালীন সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বহু ভিআইপি ব্যক্তির আনাগোনা দেখেই তিনি কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন।
এপস্টেইন ফাইলগুলো প্রকাশের পর থেকে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এপস্টেইনের পুরোনো যোগসূত্র নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে এপস্টেইনের মৃত্যুর অনেক আগেই তার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে, তবুও বিচার বিভাগের প্রকাশিত এই ফাইলগুলো এবং গেটসের এই নতুন জবানবন্দি তদন্তের মোড় আরও ঘুরিয়ে দিয়েছে।