ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রবল রাজনৈতিক চাপ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে অবশেষে পিছু হঠতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অতীতে দায়ের করা সমস্ত আইনি পদক্ষেপ ও মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে বিহার ও আসাম সরকার একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায়, দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো বাংলাতেও এই মামলা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সিজেপির ধারাবাহিক চাপ। গত সোমবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে চলমান পুলিশি অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা ইতিপূর্বে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও আসামে আটক হওয়া আন্দোলনকারীদের আইনি লড়াইয়ে সহায়তার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি সেবা চালুর ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। মঙ্গলবারের মধ্যে সব বন্দির মুক্তি নিশ্চিত না হলে দেশজুড়ে নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।
এই চরম হুমকির পরই প্রথমে বিহার ও পরে আসাম সরকার প্রশাসনিকভাবে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। সেই পথ ধরেই এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারও প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো বাতিলের কাজ শুরু করেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। যদিও এই প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের নতুন করে আটকে রাখা হবে না বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল, যা কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত সোমবার পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। সেই সংঘাতে বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মীও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ধর্মতলার ওই মিছিলে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে বহিরাগত লোক এনে অশান্তি পাকানো হয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৭০ জন এমন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের মূল ছাত্র আন্দোলন বা সিজেপির সঙ্গে বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে, প্রকৃত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অপরাধীদের আলাদা করে দেখা হচ্ছে। সেই নীতি মেনেই সাধারণ ছাত্রদের বিরুদ্ধে নেওয়া দমনপীড়নমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সহিংসতা ও সাংবাদিক নিগ্রহের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। পরপর তিন রাজ্যে একই রকম রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফলে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় এক নতুন বাস্তবতার সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন