আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে ৮৮ হাজার ৯শ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দেশে মোট কর্মরত চিকিৎসক রয়েছেন ৩০ হাজার ৩১১ জন। ফলে সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে ৫৮ হাজার ৫৯৮ জনের। তবে শুধু সরকারি হাসপাতালগুলোর কথা বিবেচনা করলে অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে সাড়ে ১১ হাজার। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বিকেলে অনুষ্ঠিত সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে জানান, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত মোট পদ রয়েছে ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩০ হাজার ৩১১ জন এবং শূন্য রয়েছে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ। জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের এই প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ন্যূনতম মানদণ্ড প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসক অনুসারে।
তবে সামগ্রিক চিকিৎসকের সংখ্যা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নিয়োজিত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ ও স্বাস্থ্যসেবা জনবান্ধব করতে সরকার বিভিন্ন বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এর অংশ হিসেবে ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। সরকারের এসব চলমান উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি খাতের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্তব্য করুন