হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ২০ শতাংশ মাশুল বা ফি ধার্য করার মার্কিন পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাবিত পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে লুলা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি পরাশক্তি যদি এমন আচরণ করে, তবে তা তাদের ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক মহলে যারা দীর্ঘকাল ধরে জলদস্যুতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে এসেছে, তাদের কাছ থেকে এমন সিদ্ধান্ত মোটেও কাম্য নয় বলে তিনি মনে করেন।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি উন্মুক্ত রাখার খরচ জোগাতে সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি কার্গো জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ মাশুল আদায়ের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সাও পাওলোতে আয়োজিত এক জনসভায় ব্রাজিলের প্রবীণ এই নেতা নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লুলার মতে, কোনো আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করার বিনিময়ে এমন মাশুল আরোপ করা ঐতিহাসিকভাবে জলদস্যুতারই নামান্তর।
এই আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাব এখন ব্রাজিলের সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ছে বলে লুলা সতর্ক করেছেন। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্ট এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার জেরে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাল, ডাল, টমেটো ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে ব্রাজিলের বর্তমান সরকার জ্বালানির ওপর বিশেষ কর মওকুফসহ নানাবিধ জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন লুলা, যিনি চতুর্থ মেয়াদে জয়ের জন্য লড়ছেন। মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই পথটি অবরোধ করেছিল, যার রেশ এখনো আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করে রেখেছে।
মন্তব্য করুন