জাপানের খাদ্য স্বয়ম্ভরতার হারে বড় ধস নেমেছে। গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ক্যালোরি-ভিত্তিক গ্রহণের বিচারে দেশটির খাদ্য স্বয়ম্ভরতার হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে জাপানের কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথম দেশটিতে এই হার পতন ঘটল। ১৯৬৫ সাল থেকে তুলনামূলক তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর এটি অন্যতম সর্বনিম্ন রেকর্ড। প্রধান খাদ্য চালের দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশটিতে চালের সামগ্রিক ভোগ কমে গেছে, যার ফলশ্রুতিতে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর জাপানের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাপান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্য স্বয়ম্ভরতার হার ৪৫ শতাংশে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও বর্তমান বাস্তব চিত্র উল্টো দিকেই হাঁটছে। গত চার বছর ধরে ৩৮ শতাংশে স্থির থাকার পর এবার তা আরও ১ শতাংশ কমেছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া বা কানাডার মতো দেশগুলোর খাদ্য স্বয়ম্ভরতা ১০০ শতাংশের বেশি হলেও জাপান এই দিক থেকে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চালের স্বয়ম্ভরতার হার ২ শতাংশ কমে ৯৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে গম ও মাংসের হার যথাক্রমে ১৬ শতাংশ এবং ৫৩ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন বেড়ে ৫৩ শতাংশ হলেও সবজির হার কমে ৭৭ শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে, দেশীয় পণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে আর্থিক মূল্যের বিচারে স্বয়ম্ভরতার হার ২ শতাংশ বেড়ে ৬৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আঞ্চলিক চিত্রে ক্যালোরির বিচারে ২২৭ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে হুক্কাইদো, আর চরম আমদানিনির্ভরতার কারণে ওসাকার স্বয়ম্ভরতা মাত্র ১ শতাংশ এবং টোকিওতে তা শূন্য শতাংশে ঠেকেছে।
মন্তব্য করুন