বিএনপি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) চারটির বেশি আসন ছেড়ে না দেওয়ার কারণেই দলটি বাধ্য হয়ে জামায়াতে ইসলামীর জোটে যোগ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সাম্প্রতিক লংমার্চ নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।
জামায়াতের সাম্প্রতিক লংমার্চ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জামায়াতের গাড়িবহর নিরাপদে গেলেও তারা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করেছিল। রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করা এবং বহরে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সবকিছু দেখে মনে হয়েছে এটি সম্পূর্ণ জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলে পরিচালিত একটি কর্মসূচি, যেখানে পর্দার আড়ালে থেকে জামায়াত নিজেদের ঝুঁকি এড়াতে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে রাজনীতি করতে চাইছে। এমনকি জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মীও এনসিপিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া বা তাদের নিজেদের জোটের মুখপাত্র বানানো সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টে আরও বলা হয়, শুধু এনসিপি নয়, মাওলানা মামুনুল হকের দলসহ জোটে থাকা অন্যান্য ছোট দলগুলোও মূলত বিএনপির কাছ থেকে পর্যাপ্ত আসন বা কাঙ্ক্ষিত মনোনয়ন না পাওয়ার কারণেই জামায়াতমুখী হয়েছে। ভবিষ্যতে বিএনপি যদি আসন সমঝোতা পুনর্বিন্যাস করে বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়, তবে এসব দল আবার অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপিতে ফিরে যাবে বলে তিনি দাবি করেন। পরিশেষে, অতীতে এনসিপির নেতারা জামায়াতকে নিয়ে যেসব কঠোর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি শক্তি ও সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এনসিপি, যা শেষ পর্যন্ত জামায়াতের জন্যই বুমেরাং হতে পারে।
মন্তব্য করুন