বরিশালে নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে আলমগীর সিকদার নামে ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের বিচারক আশরাফ উদ্দিন আসামির উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর সিকদার উজিরপুর উপজেলার পূর্ব কেসবকাঠি গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ সিকদারের ছেলে। বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানাও করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আলমগীরের প্রতিবেশী হওয়ায় তার বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এই সুযোগে ২০২৩ সালের ৩ মার্চ বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আলমগীর তাকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী গর্ভবতী হয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীর গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর বয়স তিন বছর। একই বছরের ২১ মে শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের সবচেয়ে মানবিক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ভুক্তভোগী মা ও তার সন্তানের ভরণপোষণের বিষয়টি। আদালত রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জন্ম নেওয়া শিশু এবং তার মায়ের যাবতীয় দায়িত্ব জেলা প্রশাসনকে বহন করতে হবে। একজন বিচারপ্রার্থীর প্রতি আদালতের এমন সহানুভূতিশীল সিদ্ধান্ত সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য নজির স্থাপন করল। অপরাধীর কঠোর শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার এই প্রতিফলন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন