দেশের নারী সমাজের শিক্ষার সুযোগ আরও বহুগুণ বিস্তৃত ও প্রসারিত করতে সরকার নারীদের গ্র্যাজুয়েশন বা অনার্স পর্যায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ শিক্ষা ফ্রি বা অবৈতনিক করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে ছাত্রীদের পড়াশোনার যাবতীয় খরচ রাষ্ট্র বা সরকার নিজে বহন করবে। এর পাশাপাশি দেশের নারী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও বেশি উৎসাহিত করতে ভালো ফলাফল অর্জনকারী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে ঐতিহাসিক পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, স্থানীয় দুস্থ ও পরিশ্রমী জেলেদের মাঝে মাছের পোনা বিতরণ এবং এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে উষ্ণ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
বর্তমান সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রথম দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন তিনি নারীদের শিক্ষাকে ইন্টারমিডিয়েট বা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী সমাজ উল্লেখ করে তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন যে, এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে ফেলে রেখে দেশকে কখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আর সেই সুদূরপ্রসারী ও বাস্তবমুখী চিন্তা থেকেই বর্তমান সরকার দেশের নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার সমস্ত খরচ বহন করবে সরকার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণী ও ছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি স্নেহমাখা সুরে বলেন, ‘এখানে অনেক বোন ও সন্তানতুল্য মেয়েরা আছে। তোমাদের ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে, যাতে বড় হয়ে তোমরা এই দেশের হাল ধরতে পারো।’ শুধু টিউশন ফি ফ্রি করাই নয়, বরং যেসব মেধাবী ছাত্রী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত উপবৃত্তির সুব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এছাড়া দেশের তৃণমূল পর্যায়ের কোমলমতি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে নতুন এক কল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গরিব ও মেধাবী পরিবারের শিশুদের সরকার পক্ষ থেকে এখন থেকে প্রতি বছর নিয়ম করে এক সেট নতুন স্কুল ড্রেস উপহার দেওয়া হবে। শুধু স্কুল ড্রেস বিতরণই নয়, বরং দেশের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে আকর্ষণীয় ও উপযোগী নতুন স্কুল ব্যাগও পৌঁছে দেওয়ার মহৎ পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রতি বছরের নিয়মিত নতুন পাঠ্যপুস্তক বিতরণের ধারাবাহিকতার পাশাপাশি এখন থেকে কোমলমতি শিশুদের ঘরে ঘরে নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস পৌঁছে দেওয়ার সুব্যবস্থা করবে সরকার। অন্যদিকে, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজকে যেমন শিক্ষায় সামনে এগিয়ে নিতে চাই, একইভাবে তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যেসব পরিবারের নারী প্রধান বা মায়েরা সংসার পরিচালনা করেন, তাদের হাতে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। আল্লাহর রহমতে সেই ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি পরিবারের ঘরে ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন