ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন বা ক্ষতিকর পদক্ষেপের বিপরীতে ‘কঠোর ও চূর্ণকারী’ প্রতিক্রিয়ার নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। দেশটির আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমন ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে কোনো হুমকি বা হামলার শিকার হলে তাৎক্ষণিক এবং আগে থেকে নির্ধারিত কঠোর জবাব দেওয়া সম্ভব হয়।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গরিবাবাদি প্রস্তাব দিয়েছেন যে, ইরানের পার্লামেন্ট অথবা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল যেন এমন একটি আইন বা সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে, যেখানে দেশের সর্বোচ্চ নেতা, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা কিংবা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যেকোনো হামলার রূপরেখা ও তার বিপরীতে সর্বোচ্চ কঠোর প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত থাকবে। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া কোনো পদক্ষেপই জবাবহীন থাকা উচিত নয়। অর্থাৎ, প্রতিটি উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সামরিক জবাব প্রস্তুত রাখা এখন সময়ের দাবি।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা চলছে, এই মন্তব্য সেই পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণ উপকূলবর্তী বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাশাপাশি ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করা হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। গরিবাবাদির এই নতুন নীতি ঘোষণা মূলত একটি সতর্কবার্তা, যার মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে প্রস্তুত এবং যেকোনো সামরিক চ্যালেঞ্জের বিপরীতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে
মন্তব্য করুন