আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও শতাধিক গুম-খুনের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষের পথে। ঠিক এই সময়ে ট্রাইব্যুনালে সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে হাজির করার দৃশ্যপটে এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। এতদিন তাকে স্বাভাবিকভাবে আদালতে আনা হলেও বর্তমানে তার সুরক্ষায় যুক্ত হয়েছে হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। গোয়েন্দা সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পরই তার নিরাপত্তাব্যবস্থায় এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের কাছ থেকে ভারী অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে ব্রাশফায়ার করে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন জিয়াউল আহসান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন গুম-খুনের ঘটনায় করা মামলায় ইতোমধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ প্রায় ১০ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার নথিপত্র ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে জিয়াউলের একের পর এক নৃশংসতার চিত্র প্রকাশ পাওয়ায় এবং বিচারকার্য শেষ পর্যায়ে থাকায় তাকে নিয়ে নতুন করে নাশকতার বা ‘স্যাবোটাজ’-এর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় ও ট্রাইব্যুনালের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়।
গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে আনার পর জিয়াউল আহসানকে হাতকড়া, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হচ্ছে। এর আগে ৩১ আগস্ট তাকে স্বাভাবিকভাবেই আনা হয়েছিল। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাকে কঠোর নিরাপত্তার বেড়াজালে রাখা শুরু হয়। এদিকে গত ২ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘সবার টার্গেট’ উল্লেখ করে এবং শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে হাতকড়া ও ভেস্ট থেকে অব্যাহতির আবেদন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন জিয়াউল। প্রিজনভ্যান থেকে হাজতখানার দূরত্ব মাত্র কয়েক গজ হওয়া সত্ত্বেও স্নাইপার বা অন্য কোনো উপায়ে তাকে টার্গেট করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের ওপরও তার ঘনিষ্ঠজনদের নজরদারি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন