পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে যাত্রীবাহী সাকুরা পরিবহনের একটি বাস ও যাত্রীবোঝাই ইজিবাইকের মধ্যে এক ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই হাড়হিম করা সড়ক দুর্ঘটনায় হারুন গাজী নামে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির অত্যন্ত মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। হাইওয়ে রোডের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ইজিবাইকে থাকা অন্তত আরও আটজন যাত্রী গুরুতর ও আশঙ্কাজনকভাবে আহত হয়েছেন। শনিবার রাত সোয়া আটটার দিকে কলাপাড়া আন্দার মানিক সেতুর উত্তর প্রান্ত সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত হারুন গাজী মহিপুর থানার নজিবপুর গ্রামের বাসিন্দা সত্তার গাজীর ছেলে বলে পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত করা গেছে।
কলাপাড়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে স্থানীয় পাখিমারা এলাকা থেকে ৯ জন সাধারণ যাত্রী নিয়ে একটি ইজিবাইক কলাপাড়া শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। ইজিবাইকটি মহাসড়ক ধরে কলাপাড়া সেতুর ওপর গড়ে ওঠা একটি অবৈধ স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে ধেয়ে আসা সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস ইজিবাইকটিকে সরাসরি সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় ছোট ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে এবং ভেতরে থাকা ৯ জন যাত্রীই মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হন।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে রাত এগারোটার দিকে গুরুতর আহত হারুন গাজীকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বরিশালের নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আহতদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক সাকুরা পরিবহনের বাসটিকে জব্দ ও আটক করতে সক্ষম হয়েছে। হাইওয়েতে অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে সৃষ্ট এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার বিষয়ে নিহত ও আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং দোষী চালকের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন