আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ বিশ্বকাপ ফাইনালের ঠিক আগে মাঠের ঘাসের নিচে একটি মুদ্রা পুঁতে রেখেছিলেন স্পেনের তারকা লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া। শুনতে কিছুটা অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য মনে হলেও, রোমাঞ্চকর বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশটির সাবেক ফুটবলার জোয়ান ক্যাপদেভিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ‘গোপন রহস্য’ প্রকাশ করেছেন।
রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পরাজিত করে নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে স্পেন। ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের রক্ষণভাগের অন্যতম বড় ভরসা ছিলেন লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া। পুরো ম্যাচে দারুণ রক্ষণাত্মক নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে আটকে রাখেন এবং দলের জয়ে অনবদ্য অবদান রাখেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর স্পেনের সাবেক কিংবদন্তি লেফট-ব্যাক জোয়ান ক্যাপদেভিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি বিশেষ পোস্ট করে জানান যে, ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেও তিনি ঠিক একইভাবে মাঠের ঘাসের নিচে একটি মুদ্রা পুঁতে রেখেছিলেন। ১৬ বছর আগের সেই সৌভাগ্যের কুসংস্কার বা রীতি এবার ফাইনাল ম্যাচের আগে কুকুরেয়াকেও পালন করতে বলেছিলেন তিনি। ক্যাপদেভিলা তার পোস্টে লেখেন, ‘এবার একটি গোপন কথা বলি। ২০১০ সালে ফাইনালের আগে আমি একটি মুদ্রা মাঠে পুঁতে রেখেছিলাম। এই গল্প আমি বহুবার বলেছি। এবার আমি কুকুরেয়াকেও একই কাজ করতে বলেছিলাম। মার্ক, তুমি এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন!’
এর আগে ফাইনালের ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে দেখা যায় যে কুকুরেয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মাঠের এক কোণে গিয়ে ঘাসের নিচে একটি মুদ্রা লুকিয়ে রাখছেন। যদিও এই ধরনের আচার-অনুষ্ঠান বা রীতির পেছনে কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক বা তাত্ত্বিক ভিত্তি নেই, তবুও ঐতিহ্যগতভাবে ক্রীড়াঙ্গনে এ ধরনের অন্ধবিশ্বাস বা সৌভাগ্যের প্রতীক বেশ জনপ্রিয়।
সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের মতোই এবারও নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ড্র হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের গোলেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন। ১৬ বছর আগে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ঐতিহাসিক অতিরিক্ত সময়ের গোল নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে স্পেনকে প্রথম বিশ্বমিরেতাব এনে দিয়েছিল, আর এবার নিউ জার্সির ফাইনালে ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের দুর্দান্ত গোলেই শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা।
মন্তব্য করুন