শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষাসংক্রান্ত মার্কিন আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার নিষ্পত্তি করতে বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে সম্মত হয়েছে জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতার অংশ হিসেবে টিকটক কর্তৃপক্ষকে মোট ৪০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হচ্ছে। পূর্বনির্ধারিত এই সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী টিকটক তাৎক্ষণিকভাবে ৩০০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবে এবং আদালতের আদেশের মাধ্যমে টিকটকের পূর্বসূরি প্ল্যাটফর্ম মিউজিক্যালি-সংক্রান্ত আগের একটি সম্মতিসূচক আদেশ পুরোপুরি বাতিল হলে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে।
মূলত গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ এবং ফেডারেল ট্রেড কমিশন যৌথভাবে টিকটক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিল। ওই মামলায় প্রধান অভিযোগ ছিল যে, টিকটক জেনেশুনে ১৩ বছরের কম বয়সি শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দিয়েছে এবং শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট কিডস মোড ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও বেআইনিভাবে নানা ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তদন্তে আরও উঠে আসে যে, অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য মুছে দেওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ জানালেও টিকটক অনেক ক্ষেত্রে তা আমলে নেয়নি বা যথাযথভাবে কার্যকর করেনি। যদিও সে সময় টিকটক এই অভিযোগগুলো সরাসরি অস্বীকার করে দাবি করেছিল যে, অভিযোগের কিছু বিষয় তাদের পুরোনো কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত এবং সেগুলোর কিছু তথ্য সঠিক নয় কিংবা অনেক ত্রুটি ইতিমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ টিকটকের সাথে হওয়া এই ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতাকে দেশের শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষা আইন বা চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্টের ইতিহাসে অন্যতম বড় একটি অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, টিকটক ইতিমধ্যে তরুণ ব্যবহারকারীদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করতে, বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতি আরও উন্নত করতে এবং অভিভাবকদের নজরদারির পরিধি বাড়াতে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই সমঝোতা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি ই. উডওয়ার্ড জুনিয়র মন্তব্য করেছেন যে, এটি মার্কিন শিশু ও অভিভাবকদের জন্য একটি বড় ধরনের বিজয়, কারণ শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কাজ করা টেক জায়ান্টগুলোকে আইন মেনে চলতে বাধ্য করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। উল্লেখ্য, শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে টিকটক এর আগেও বড় ধরনের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মুখে পড়েছিল, যার মধ্যে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাধারণ তথ্য সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘনের দায়ে আয়ারল্যান্ডের ডেটা প্রোটেকশন কমিশন কর্তৃক টিকটককে ৩৪৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করার ঘটনাও রয়েছে।
মন্তব্য করুন