হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এক সফল অভিযান চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে ছয়টি পিস্তল, সাতটি ম্যাগাজিন এবং ২২ রাউন্ড গুলি। বিশেষ কৌশলে মাটির নিচে পুঁতে রাখা এসব অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত পিলার ১৯৭৮ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে দুর্গম ও ঘন জঙ্গলবেষ্টিত এলাকায় এই অস্ত্রগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বিজিবির প্রাথমিক ধারণা, বড় ধরনের কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, ডাকাতি কিংবা সন্ত্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই দুষ্কৃতকারীরা এই দুর্গম পাহাড়কে অস্ত্র লুকানোর আস্তানা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। তবে ঠিক কারা এই অস্ত্রগুলো সেখানে রেখেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উদ্ধার করা এই অস্ত্র ও গোলাবারুদ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এসব অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে বিজিবি সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতে এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং এর আশপাশের এলাকাগুলো দীর্ঘ সময় ধরেই অপরাধীদের নজরদারিতে থাকে। বিশেষ করে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চোরাচালান রোধে বিজিবি, বন বিভাগ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত টহল দিয়ে থাকে। গত তিন মাসে এই একই এলাকা থেকে বিজিবি ৪১ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী আটক করেছে। আজকের এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি বনাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
মন্তব্য করুন