কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অভূতপূর্ব প্রসারের ফলে বিশ্বজুড়ে যে বিপুল পরিমাণ ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে, তা মেটাতে গিয়ে বিদ্যুৎ খাতের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা পূরণের জন্য নতুন পাওয়ার গ্রিড এবং ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে, যা অনেক সময় সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়েই নিতে হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, জমির মালিকরা নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে সরকার বিশেষ আইনি ক্ষমতার বলে জোরপূর্বক এসব ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেটন ইউনিভার্সিটির আইনের সহকারী অধ্যাপক অ্যারন ওয়ালায়াটের একটি প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, এই ধরনের ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ‘ইমিনেন্ট ডোমেন’ নামক একটি আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এই আইনের মাধ্যমে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থের কথা বলে যথাযথ ক্ষতিপূরণ সাপেক্ষে যেকোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিজেদের দখলে নিতে পারে। এমনকি এই ক্ষমতা কেবল সরকারি সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সরকার চাইলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিভিন্ন ইউটিলিটি কোম্পানির মতো বেসরকারি বা সাধারণ বাহক সংস্থাকেও এই বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করতে পারে।
বর্তমানে এআই বুমের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার ডেটা সেন্টার সচল রয়েছে এবং আরও অসংখ্য নতুন প্রজেক্ট পাইপলাইনে রয়েছে। তবে এই বিশাল সুপারক্লাস্টারগুলোর কারণে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংকট, অতিরিক্ত পানির ব্যবহার এবং শব্দদূষণের মতো সমস্যাগুলো তীব্র আকার ধারণ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। জরিপ অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের কাছাকাছি এলাকায় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ করার তীব্র বিরোধিতা করছেন। এর ফলে ডেভেলপাররা বড় শহরগুলোর কড়া নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে গ্রামীণ এলাকাগুলোকে বেছে নিচ্ছেন।
তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের এই নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পথ এতটাও সহজ নয়। আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানি বা কর্তৃপক্ষ চাইলেই হুট করে ইচ্ছেমতো জমি দখল করতে পারে না। তাদের স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে হবে যে প্রস্তাবিত অবকাঠামোটি সত্যিকার অর্থেই জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া আমেরিকার অনেক অঙ্গরাজ্য নিজেদের সংবিধান অনুযায়ী এই ইমিনেন্ট ডোমেন আইনের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও সীমাবদ্ধতা বজায় রাখে। এরই মধ্যে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক থেকেই বেশ কিছু ডেটা সেন্টার প্রজেক্ট বাধাগ্রস্ত বা বাতিল হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে প্রযুক্তিগত এই বিপ্লবের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্থানীয় সম্প্রদায় এবং আইনি কাঠামোগুলো এক নতুন জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন