বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে আজ ভ্যাঙ্কুভারে এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নামছে স্বাগতিক কানাডা ও ইউরোপের শক্তি সুইজারল্যান্ড। উভয় দলই দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে প্রস্তুত। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ড্র করলেই কানাডা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার টিকিট নিশ্চিত করতে পারবে।
কানাডার জন্য ইতিহাস গড়ার সুযোগ: প্রথম ম্যাচে ড্রয়ের পর কাতারের বিপক্ষে ৬-০ গোলের দাপুটে জয়ে কানাডা এখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে। এই জয়টি তাদের ইতিহাসের পাতায় রেকর্ড হিসেবে খোদাই হয়ে আছে। তবে দলের জন্য বড় ধাক্কা হলো মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ইসমাইল কোনের গুরুতর ইনজুরি। কোনেকে হারিয়ে দলের ছন্দ কিছুটা ব্যাহত হলেও নাথান সালিবার মতো উদীয়মান তারকার ওপর আস্থা রাখছেন কোচ জেসি মার্শ। অন্যদিকে, আলফোনসো ডেভিসের মাঠে ফেরা নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ তুঙ্গে, যদিও তার চোটের অবস্থা বিবেচনায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঝুঁকি নিতে চায় না কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সহ-অধিনায়ক স্টিফেন ইউস্তাকিওর ফিটনেস নিয়েও সামান্য উদ্বেগ রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞতার রসদ: প্রথম ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে ড্র করলেও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সুইজারল্যান্ড তাদের ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। টানা পাঁচ ম্যাচ অপরাজিত থাকা দলটি তাদের রক্ষনভাগের দৃঢ়তা ও সুসংগঠিত মাঝমাঠের শক্তির ওপর ভরসা করছে। গ্রানিত জাকা, মানুয়েল আকাঞ্জি ও ব্রিল এম্বোলোর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত সুইজারল্যান্ড যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই হুমকি। বিশেষ করে প্রথমার্ধে রক্ষণভাগ অটুট রাখার ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা কানাডার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনা: মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে ২০০২ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে কানাডা ৩-১ ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ড এখন অনেক বেশি শক্তিশালী এবং পরিণত। ভ্যাঙ্কুভারের দর্শকপূর্ণ স্টেডিয়ামে একদিকে যেমন কানাডার স্বপ্ন পূরণের তাড়না কাজ করবে, অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড চাইবে তাদের দীর্ঘদিনের ফুটবল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে। আজ রাতের এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে ইতিহাস ও অভিজ্ঞতার এক অনন্য সংঘাত।
মন্তব্য করুন